Gig Marketing এর বাস্তব চিত্র

Practice English for your own good
November 1, 2017

Gig Marketing এর বাস্তব চিত্র

 

প্রথমেই বলে রাখি আমি মার্কেটার না এবং আমি গিগ মার্কেটিং করি না। মাঝে মাঝে টুইটারে গিগ শেয়ার দেই ব্যস এত টুকুই! আর পরীক্ষা মূলক ভাবে একজনকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম গিগ মার্কেটিং করার। কিছু ক্লিক ভিউ আসলেও ফলাফল ছিল শূন্য। বরং গিগের রাঙ্কিং আরও পিছিয়েছিল। ফলে গিগ মারকেটিং বিষয়টাকে বাদ দিয়েছি। এর আগে কোন এক লেখায় বলেছিলাম যে এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় Fiverr এর মোট অর্ডারের ৯০% Fiverr সার্চ এবং তাদের নিজেদের মারকেটিং থেকেই আসে। মাত্র ১০% সেল আসে আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া মারকেটিং থেকে। এটা জানার পর থেকেই গিগ মারকেটিং বাদ দিয়েছি।

এখন প্রশ্ন করতে পারেন তাহলে কেন এই পোস্ট করছি। আসলে কিছু তিক্ত বাস্তবতা বলার জন্য এই পোস্ট। নিচের স্ক্রিনসট লক্ষ্য করুন। এই Fiverr সেলার টুইটারে তার গিগ মারকেটীং করছে। এই বছরের শুরুর দিকে খোলা এই প্রফাইলে এই পর্যন্ত সে টুইট করেছে ৮ হাজার বারের উপরে :O সব নিজের গিগের লিঙ্ক। সে ১৭২০ জনকে ফলো করে। এর বেশির ভাগই সে যে রিলেটেড কাজ করে, সেই রিলেটেড কেউ না। তার ফলোয়ার মাত্র ৫৮৬ জন এবং বেশির ভাগ তার কাজ রিলেটেড না। সে লাইক দিয়েছে ১০ হাজারের উপরে। কেন দিয়েছে সে হয়ত নিজেও জানে না 🙁

এখন ফলাফল কি সেটা বলি, সে কাজ কাম বাদ দিয়ে, প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা তার গিগের লিঙ্ক শেয়ার দিয়ে যাচ্ছে। ফলাফল কি হচ্ছে সেটা সে নিজেও জানে না। তার Fiverr প্রফাইল চেক করে দেখ্‌ এত কষ্ট করার পরেও গত এক বছরে মাত্র ১৩টা সেল করতে পেরেছে। বুঝেন তার মার্কেটিং এর শক্তি 🙂 আসলে সে যেটা করছে সেটা হচ্ছে পিওর স্পামিং। সে স্পামিং এ এতটাই ব্যাস্ত ছিল যে, তার টুইটার প্রফাইলে কোন ব্যানার দিতেই ভুলে গেছে 🙂 আমি তার দোষ দেব না। কিছু দেশি ইউটিউবার যারা Fiverr নিয়ে ভিডিও বানায়, তারাই মূলত এর জন্য দায়ি। তারা আসলে নির্ভেজাল স্পামিং শেখাচ্ছে।

দেখা যায়, নতুন কেউ হয়ত কোন মতে একটা Fiverr প্রফাইল খুলে গিগ দিয়েছে, এর পরে সে ইউটিউব সার্চ দিয়ে গিগ মার্কেটিং এর এই সব ভিডিও দেখে, এর পরে স্পমিং শুরু করে দেয়। এই রকম হাজার হাজার দেশি সেলার প্রতিনিয়ত সোশ্যাল মিডিয়াতে, নিজেদের সময় নস্ট করে প্রতিনিয়ত স্পামিং করে যাচ্ছে। কাজের কাজ আসলে কিছুই হয় না। ফাকে লাভ হাচ্ছে Fiverr এর। ফ্রিতে তাদের সাইটের পাবলিসিটি হচ্ছে 🙁 বাস্তবতা হচ্ছে, কেউ ভাল কাজ জানলে এসব কিছুর দরকার হয় না। আমার ফ্রেন্ডলিস্টে বেশ কয়েকজন টপ রেটেড সেলার আছেন, ভাল সেল করছেন এমন অনেক লেভেল-২ সেলার আছেন। কাউকে কখনো বলতে শুনিনি যে তাদের গিগ মারকেটীং করছেন। এসব করার সময় কোথায়! কাজ করেই শেষ করতে পারে না আবার গিগ মার্কেটিং। তারা তাদের কাজে এতটাই দক্ষ যে বায়ার তাদের হাত ছাড়া করে না।

আমি দেখেছি যারা একেবারে সাধারণ মানের কাজ করেন, এবং নিজের কাজে দক্ষ না। তারাই মূলত সময় পায় গিগ মার্কেটিং করার। কারন তাদের করার মত কিছু নেই। ফলে বসে বসে স্পামিং করে। তাদের বলব এসব বাদ দিয়ে ভাল করে কাজ শেখেন, সময়কে কাজে লাগান, নিজেকে আপগ্রেড করেন। দক্ষ লোকের কাজের অভাব হয় না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আমি কি তাহলে মারকেটীং করার বিরোধী। মোটেও তাই না। আমি জেনুইন মারকেটীং করার পক্ষপাতী, আর স্পামিং এর ঘোর বিরোধী! কারন এই স্পামিং বিদেশিদের কাছে আমাদের দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে। বাস্তবতা হচ্ছে আমরা অধিকাংশই মার্কেটিং বুঝি না। আর যদি সত্যিই বুঝতাম, তবে মার্কেটিং করেই অনেক ইনকাম করতে পারতাম অন্য কাজ না করলেও চলত 🙂 তাই যে জিনিস বুঝি না, সেটা আন্দাজে না করাই ভাল। আর যদি করতেই হয় তবে একটু ভাল পড়াশোনা করে এবং ভাল হয়, মার্কেটিং এ অভিজ্ঞ কারো পরামর্শ নিয়ে শুরু করা। একটা প্রপার প্ল্যান নিয়ে মার্কেটিং এ নামা এবং এর জন্য অবশ্যই কিছু বাজেট রাখা। আশা করা যায় ভাল রেজাল্ট আসবে।

আমার কিছু টিপসঃ

এতক্ষণ অনেক বকবক করলাম এখন কাজের কথায় আসি। শুরু করেছিলাম টুইটার দিয়ে। তাই টুইটার এর উপর কিছু টিপস দেই। আগেই বলেছি আমি মার্কেটার না। তার পরেও লিন্ডা আর ইউডেমির কিছু প্রিমিয়াম ভিডিও দেখা, আর নিজের কিছু কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে কিছু টিপস দিচ্ছি।

১. আপনার Twitter প্রফাইল প্রফেশনালি সাজান। কাজ রিলেটেড ভাল একটা ব্যানার দিন। ব্যানার বানাবার জন্য canva.com এর ফ্রি ভার্সন ইউজ করতে পারেন। প্রয়জনে ভাল মার্কেটিং করছে এমন কারো প্রফাইল ফলো করতে পারেন।
২. আপনার নিশ সিলেক্ট করেন। (নিশ হচ্ছে যে নিদিষ্ট বিষয়ে আপনি কাজ করবেন সেটা) যেমন আপনি যদি ফটো ইডিটীং এর কাজ করেন তবে আপনি টার্গেট করবেন ফটোগ্রাফারদের। যদি বুক কভারের কাজ করেন তবে টার্গেট করবেন যারা কিন্ডেল বুক পাবলিশ করে। এভাবে আপনার কাজের ধরন অনুযায়ী নিশ সিলেক্ট করেন। প্রফাইল সেই অনুযায়ী সাজান আর সেই ভাবেই মার্কেটিং করেন।
৩. প্রতিদিন নিয়মিত আপানার নিশ রিলেটেড ৫০/১০০ জনকে ফলো করেন। যারা ফলো ব্যাক করবে না ০৭ দিনের মধ্যে তাদের আনফলো করে দিন। টারগেটেড ফলোয়ার বাড়ান। ভাল টারগেটেড ফলোয়ার সহ একটা প্রফাইল হচ্ছে অমূল্য সম্পদ।
৪. ভুলেও দেশি কাউকে ফলো করবেন না। দেশি কেউ আপনাকে ফলো করলে ফলো ব্যাক করবেন না। কারন আর নাইবা বললাম 🙁
৫. প্রতি ঘণ্টায় নিজের কাজ রিলেটেড একটা টুইট করতে পারেন। ছবি দিলে ভাল এঙ্গেজমেন্ট পাবেন। ছবি ডিজাইন করার জন্য canva.com ইউজ করতে পারেন। থার্ড পার্টি কিছু এপ্স ইউজ করে আপনি প্রতি ঘণ্টার শিডিউল পোষ্ট ঠিক করে দিতে পারেন। এতে আপনার সময় অনেক বেঁচে যাবে।
৬. ভাল ছবি বা পোস্ট রিটুইট করবেন এবং এর সাথে নিজে কোন লিঙ্ক দেবেন না। আপনি যে স্পামার না এটা প্রমানিত হবে। আপনার প্রফাইলের ভ্যালু বাড়বে!
৭. থার্ডপার্টি কিছু সফটওয়্যার ইউজ করে আপনি সহজেই আপনার ফলোয়ার বাড়াতে পারবেন এবং সুন্দর ভাবে আপনার প্রফাইল মেইন্টেইন করতে পারবেন। এর জন্য বেস্ট হচ্ছে https://manageflitter.com আগে এর ফ্রি ভার্সন ইউজ করেন। ভাল লগলে মাত্র ১২ ডলার দিয়ে ১ মাসের সাবস্ক্রিপশন নিয়ে ইউজ করে দেখেন, অনেক ভাল ফলাফল পাবেন। একেবার লেজার টারগেটেড বায়ার পাবেন। https://www.crowdfireapp.com/ অনেক ভাল। এটা দিয়ে টুইটারের পাশাপাশি অন্যান্য সোশ্যাল প্রফাইল মেইনটেইন করতে পারবেন। এটারও মান্থলি সাবসস্ক্রিপ্সন নিতে পারেন। অনেক ভাল ফল পাবেন। আমি মাত্র একমাস এটা ইউজ করে প্রায় ১ হাজার টারগেটেড ফলোয়ার পেয়েছিলাম।
৮. খরচ করার মত ডলার না থাকলে https://tweetdeck.twitter.com/ এটা ফ্রিতে ইউজ করতে পারেন আপনার টুইটার প্রফাইল মেইন্টেইন করার জন্য। এটা টুইটারেরই নিজেদের প্রডাক্ট এবং একেবারেই ফ্রি।
৯. মার্কেটিং এ দক্ষ হতে হলে পড়াশোনার বিকল্প নেই। Lynda.com বা udemy.com একটু ঘাটলেই অনেক ভাল ভাল টিউটোরিয়াল পাবেন। ফ্রিতে অনেক ভাল ভাল টিউটোরিয়াল দেখতে পারেন।
https://www.udemy.com/courses/search/…
কয়েক ঘন্টা ব্যয় করে যা শিখবেন সেটা অমূল্য! কিন্তু আফসোস ৯৯% লকেরই সময় হবে না এসব করার :'(
১০. সব শেষে বলতে চাই মার্কেটিং একটা চলমান প্রক্রিয়া। সময় নিয়ে দীর্ঘ পরিকল্পনা নিয়ে যদি অগ্রসর হন তবে অনেক ভাল করবেন। প্রতিদিন অল্প অল্প করে আপনার সোশ্যাল প্রফাইল ভারি করতে থাকেন। নিয়মিত মার্কেটিং করতে থাকেন। এক সময় দেখবেন এই মারকেটীং করেই আপনার বায়ার পেয়ে যাচ্ছেন। তখন আর মার্কেটপ্লসের উপর ডিপেন্ড না করলেও চলবে। আমি এমন কয়েক জনকে পেয়েছি। আপনি যদি এমন কাউকে পান তবে অবশ্যই তার কাছ থেকে পরামর্শ নেবেন।

সবাই ভাল থাকবেন।

ধন্যবাদ!

Author

Golam Kamruzzaman

Graphic and Web Designer & Developer

 

Comments

comments

Learning Code
Learning Code
With a passion for Knowledge, "Learning Code" has been created to explore things like Free Resources For Web Developers, Designers, Photographers, and Inspiration. Learning Code believes {no age limit to learn} . So We can start anytime. Also I wish you will join in this website. because its your website to promote yourself. Show your creativity.